হযরতজীর বয়ান:মহব্বতের বস্তু কুরবানী করুন

হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ কান্ধলভী দাঃবাঃ

হযরতজী মাওলানা ইউসুফ সাহেব রহঃ একটি খাসি পালন করেছিলেন। আর এই ছাগলটি এমন ছিলো যে, ঘরের সবাই এই খাসিকে মহব্বত করতো। খাসিটি মাটিতে বসতো না, চেয়ারে বসতো। সবার সাথে সাথে থাকতো। আর ঘরের সব সদস্য এটি চাইতোন যে, আমার কাছে খাবারের যা কিছু আছে তার থেকে একটা অংশ যেনো এই খাসির জন্য হয়। খাসিটি সব খাবারই খেত। কি ফল, কি মিঠাই, কি রুটি; ঘরের মধ্যে এমন কোনো খাবার ছিলো না যেখানে তার (খাসির) অংশ না ছিলো। খুব রাজকীয় হালতে ছিলো খাসিটি। হযরতজী নিজেও এটিকে খুব আদর করতেন।

কুরবানীর সময় ঘনিয়ে এলো। ঘর থেকে বলতে লাগলো কুরবানীর জন্য একটি ছাগল খরিদ করার জন্য। হযরতজী বললেন যে ছাগলতো ঘরেই আছে। তো ঘরওয়ালারা বলতে লাগলো, “না, না;এটিকে তো আমরা আমাদের প্রিয় বানিয়ে রেখেছি, এটিকে কাটা যাবে না।” তখন হযরতজী বললেন যে ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তার প্রিয় কলিজার টুকরো ছেলেকেই জবেহ করেছিলেন। অন্য কারোর ছেলে কে নয় বরং নিজের ছেলেকে জবেহ করেছিলেন।

ঈদের দিন এই খাসিকে কুরবানী করা হচ্ছিল তখন সারা ঘরে কান্নার রোল পড়ে গেলো। হযরতজী বললেন যে এটাই আসল কুরবানী। এরপর যখন তাদের সামনে এই ছাগলের গোশতো আসলো তখন একজন ও গোশতো খাচ্ছিলো না, যেনো তাদের প্রিয় বকরী জবেহ হয় নাই। যখন মাওলানা সাহেব বললেন যে গোশতো খাবে না? এটিতো হালাল! তখন তাদের হুশ আসলো যে হ্যাঁ এটিই তো আমাদের বাকরা যাকে আমরা খাইয়েছি, পান করিয়েছি, পালন করেছি। আল্লাহ পাক এটিকে আমাদের জন্য হালাল করেছেন।

এজন্য আমি আরজ করবো আগে কুরবানীর পশু খরিদ করেন, যাতে ঐই পশু লালান পালব্ন করুন, যাতে এর সাথে মহব্বত তৈরি হয়ে যায়। কোরবানির পশুর সাথে মহব্বত হওয়া চাই। কোরবানির পশুর সাথে মহব্বত হওয়া চাই। এখন তো কিছু ঘর এমন আছে যেখানে কোরবানির বাকরা/পশু ঘরের মধ্যেই পৌঁছে না। ঐই যে কুরবানীর জন্য গেলো (হাঁটে) এবং পশু খরিদ করলো (এতটুকু তেই শেষ তাদের কুরবানী, বাকিটা লোক ঠিক করা আছে তারা ব্যবস্থা করবে)। এর কারণ হলো, যখন এর চেয়ে বেশি মাল (তাদের) খায়েশাতের পেছনে খরচ হয়, তখন হাজার রূপি দিয়ে কুরবানী দেওয়া (তাদের জন্য) আবার কিসের কুরবানী? যদি কুরবানীর সামর্থ্য থাকে তবে, কমসে কম এতোদিন আগে কুরবানীর পশু খরিদ করে নেন, যাতে তার সাথে মহব্বত হয়ে যায় এবং এরপর জবেহ করেন। কারণ কুরআন বলে যে তুমি ঐ পর্যন্ত নেকি পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না মহব্বতের বস্তু কুরবান না করো।

অনুবাদঃ মো.রা.হা.মি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *